আকাইদের ধারণা ও গুরুত্ব

আকাইদের ধারণা ও গুরুত্ব: আকাইদ শব্দটি আরবি। এটি বহুবচন, একবচনে আকিদা। এর অর্থ বন্ধনসমূহ, বিশ্বাসমালা। যে দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের ভিত্তিতে মানুষের চিন্তা, চেতনা পরিচালিত হয় এবং কর্মসমূহ সম্পাদনের পথ ও পদ্ধতি বৈধতা লাভ করে, তাকে আকিদা বলে। বিশুদ্ধ আকিদা পােষণ ছাড়া কোনাে চিন্তা, দর্শন ও কর্ম যথার্থভাবে আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

আমলকে যদি দেহ ধরা হয়, আকিদা তার প্রাণ। দেহ যেভাবে প্রাণ ছাড়া অকার্যকর, তেমনি সহিহ আকিদা ছাড়া আমলও মূল্যহীন। তাই ইসলামি শরিয়তে আকিদা বিষয়ে সহিহ ইলম অর্জন করাকে ফরজ করা হয়েছে। এক আল্লাহকে মানার মাঝে, যে শান্তি নিহিত তা দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে উপলব্ধি করা, মন মানসিকতায় স্থির করাই আকিদার মূল চেতনা।

প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স) -এর ওপর ইমানের স্বরূপ, পরিসর, তাঁর শান ও মান, আনিত জীবনব্যবস্থা, ফেরেশতা, অন্যান্য নবি-রসুল, আসমানি গ্রন্থসমূহ ও আখেরাতসহ মানবজীবনের চলার দর্শন ও দিকনির্দেশনা কি হবে? তাই নির্দেশ করে আকাইদ। সে বিষয়ে সন্দেহাতীতভাবে জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।

হযরত যুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন- আমাদের ভরপুর যৌবনে আমরা নবি করিম (স)-এর সাথে কাটিয়েছি। আমরা কুরআন শেখার পূর্বে ইমানের (আকাইদ) শিক্ষা গ্রহণ করেছি। এরপর কুরআন শেখার মাধ্যমে আমাদের ইমান আরও মজবুত হয়েছে। (সুনানু ইবনে মাযাহ, ৬১)

মুমিনের জীবনে সহিহ আকিদার প্রয়ােজনীয়তা

মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলাে সুদৃঢ় ইমান ও সহিহ আকিদা। আকিদা খারাপ হলে আমল যত ভালােই হােক না কেননা তা নিষ্ফল।

কুরআন মাজিদে উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন অর্জন প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- যে কোনাে নারী পুরুষ ইমানদার অবস্থায় সকর্ম করবে, অবশ্যই আমি তাকে পবিত্র উন্নত সমৃদ্ধ জীবন দান করব। (সুরা নাহল, ৯৭)

এ আয়াতে নেক আমল করার জন্য ইমানের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইন্তেকালের পর কবরে মুনকার নকিরের প্রশ্নোত্তর হবে আকিদা সম্পর্কিত। তাই আল্লাহ, ফেরেশতা, নবি ও রসুল, আসমানি কিতাব, আখেরাত সম্পর্কে সন্দেহমুক্ত নির্ভেজাল আকিদার অধিকারী ব্যক্তিই কেবল নাজাতের আশা করতে পারে। অন্যথায় সকল আমল হবে মরীচিকার ন্যায় নিষ্ফল।

তাওহিদি আকিদার স্বরূপ

আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, তিনি অনাদি ও অনন্ত, তিনি ছাড়া কোনাে ইলাহ নেই। তার আগেও কেউ নেই, তার পরেও কেউ নেই। বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও প্রতিপালক একমাত্র তিনিই। তিনি লা-শরিক, তার কোন শরিক নেই। তিনি অক্ষয় অব্যয়, তাঁর ক্ষয় নেই, লয় নেই, পতন নেই। তিনি নিজেই পরিচয় দিয়েছেন।

কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে- বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়। কারাে মুক্ষাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং কেউই তাঁর সমতুল্য নয়। (সুরা ইখলাস) তিনি দেহ বিশিষ্ট নন এবং তিনি এমন সত্তা যিনি স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট নন, তিনি আকৃতি বিশিষ্ট নন, তিনি নিরাকার ও অসীম, কোনাে রং ও বর্ণ হতে তিনি পবিত্র। তাঁর কোনাে নযির নেই। তিনি বেমেছাল, কোনাে কিছুই তার জ্ঞান ও ক্ষমতার বহির্ভূত নয়।

এক কথায়, জাত বা সত্তা, গুণাবলি, আইনগত অধিকার ও ইবাদত পাওয়ার একমাত্র মালিক হিসেবে আল্লাহকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করাই তাওহিদি আকিদা। যার মূল ঘােষণা হলাে- আল্লাহ ছাড়া কোনাে ইলাহ নাই; তিনি একক। তার কোনাে শরিক নাই। তাওহিদী আকাইদই পারে মানুষকে ইহকালীন ও পারলৌকিক জীবনে শান্তি ও মুক্তি উপহার দিতে।

অনুশীলনী

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কিসের বিশুদ্ধতা ছাড়া আমল মূল্যহীন হয়ে যায়?
ক. ইমান
খ. আকিদা
গ. ইলম
ঘ. নিয়ত

২. আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে কোন সুরায় বিশেষ বর্ণনা রয়েছে?
ক. সুরা ফালাক
খ. সুরা নাস
গ. সুরা ইখলাস
ঘ. সুরা কাউসার

৩. আকাইদের নির্দেশিত বিষয় হচ্ছে –
i. সকল নবি ও রসুল আল্লাহর প্রেরিত
ii. আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়
iii. আসমানি কিতাব সত্য ও সঠিক

নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
গ. iii
খ. ii
ঘ. i, ii I iii

আবদুস সালাম বললেন যে, তার ছেলে বিদেশ থেকে টাকা না দিলে তিনি মরে যেতেন।

৪. আবদুস সালামের বক্তব্যটি কিসের পরিপন্থি?
ক. আকিদা
খ. আমল
গ. ইবাদত
ঘ. ইলম

৫. এমতাবস্থায় আবদুস সালামের করণীয় হচ্ছে –
i. আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা
ii. সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করা
iii. ছেলের জন্য বেশি বেশি দোআ করা নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i.
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১। জামাল নিয়মিত সালাত, সাওম আদায় করে। কিন্তু সে পুনরুত্থান সম্পর্কে বলে কীভাবে একজন মৃতব্যক্তি ধ্বংস হওয়ার পরে পুনরায় উখিত হবে? এটা অসম্ভব। তার বন্ধু কামাল তাকে বলল, তােমার এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে শত আমল করেও লাভ নেই। কেননা, বিশুদ্ধ আকিদা ছাড়া আমল মূল্যহীন।
ক. আকিদাহ শব্দের বহুবচন কী?
খ. তাওহিদি আকিদা কী?
গ. জামালের করণীয় কী? কুরআন সুন্নাহর দৃষ্টিতে বর্ণনা কর।
ঘ. কামালের মন্তব্যটি সঠিক কিনা? তােমার মতামত ব্যক্ত কর।

Related posts

রিসালাত ও রিসালাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব

নিফাক এবং নিফাকের কুফল ও প্রতিকার

শিরক পরিচয় এবং শিরকের কুফল ও প্রতিকার

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More